সত্যমিথ্যায় মিশেল নানা মানব ভাষার এই জটিল পৃথিবীটি একদিনে মানব বসতীর উপযোগী হয়নাই।



সত্যমিথ্যায় মিশেল নানা মানব ভাষার এই জটিল পৃথিবীটি একদিনে মানব বসতীর উপযোগী হয়নাই।


এই জটিল পৃথিবীটি একদিনে মানব বসতীর উপযোগী হয় নাই। আমাদের ব্যাবহারিক ভাষা, ধর্মীয় ভাষা, কর্মস্থানের ভাষা, দার্শনীক ভাষায় অনেক ধরনের মানবিক ও মানষিক দূরত্ব রয়েছে। তথা ভাষাভিত্তিক জাতীয়তা ও কর্মধারনায় বিভিন্নতা যে আছে সেটা সুস্পস্ট এবং সাধু কিংবা চলিত হিসাবে ধরলেও আঞ্চলিকতায় ও আশা আকাঙ্ক্খার কেন্দ্রবিন্দুতেও নানাধরনের ভাষাভিত্তিক অমিল বর্তমান।ভাষা ব্যাপ্তিলাভ করতো না যদি না মানবমনের গঠনতন্ত্রে পরোপকার করা এবং উত্তম চিন্তার বিষয়গুলো সন্নিবেশিত ও প্রকাশিত না হত। ক্লান্ত মানুষ আমাদের আদিপুরুষেরা কিভাবে একদিন সুপ্তির গহীনে নিমজ্জিত না হয়ে উৎসাহিত হতে পেরেছিলেন মানবিক আচরন প্রদর্শন করতে চেয়েছিলেন এবং অন্যদেরকেও প্রভাবিত করে শান্তির ধারনায় থাকতে পেরেছিলেন। ভাষার অনুপস্থিতিতে শুধু সাইন ল্যাঙুয়েজ ব্যবহার করে কিভাবে এরকম বিশাল একটি ইঞ্জিনিয়ারিং আদিপুরুষেরা তাঁরা নিজেরাই করেছিলেন নাকি এটা মহাজাগতিক উন্নত কোন প্রানীর আগমনে হয়েছিলো। সেসময়কার প্রাগৈতীহাসিক আদীম মানুষদেরকে সমাজবদ্ধতার জটিলতা থেকে মুক্ত করতে পঙ্কিলতায় পতিত না হতে এবং জ্ঞানের জগতের প্রবেশপথটি সুস্পস্ট করতে কি তবে বহির্বিশ্বের মহাজাগতিক ঐ প্রানীরাই নেপথ্যের কারিগর। প্রশ্ন উঠতে পারে তাহলে এখন তারা কোথায় আছে কোন মহাজগতে।


একটি বিশাল এলিয়েন রাজ্যের ধারনা নতুন নয়। হটাৎ এটা শুনলে এখনও কারো কারো কাছে এসব কোন শিশুতোষ জ্বীন-পরী, দৈত্য, দানবের কাহীনি মনে হতে পারে।প্রমান হিসাবে কোন বাস্তব ভিত্তি খুঁজে পাওয়া মুশকিল। কিন্তু একটি বিশাল মহাকালকে আমরা ‘মানুষরা’ স্বচক্ষে কতটাই বা দেখতে পাবো বলে আশা করা যায়। তাই তো ভাবনগুলিও সমৃদ্ধ হয়। একদিনে না হলেও শতাব্দীর পর শতাব্দী হচ্ছে। নৈঃশ্বব্দের কাছে মাথাকূটে মরে আমরা কেবল শান্তিময় জগৎটাকেই হারাতে পারি অথবা গোলমাল ও বিশৃঙ্গ্খলায় ভরে তুলতে পারি চারিদিক। কিন্তু মহাকালেরও টনক নড়ার কথা নয়। পৃথিবীতে এলিয়েনদের উপস্থিতি একটি বিতর্কিত বিষয়।কিন্তু জ্বীন কিংবা দানব সে যাই হোক ভীনগ্রহের প্রানের উপস্থিতিকে অস্বীকার করা যাচ্ছে না। স্বীকার না করলে তখন সভ্যতারওকোন মানে হয় না। ম্যথামেটিক্স বা গনিতকে সম্পূর্ন অর্থহীন করা হবে যেটা আর বেশী অর্থহীনতার জন্ম দেবে। সুতরাং ঈশ্বর বিশ্বাসে যাঁরা দৃড় তাঁদের ভীনগ্রহের প্রানীদের অস্তিত্বকেও স্বীকার করে নিতে হবে। কেউ ব্যাতিক্রম থাকতে পারেন সেই ব্যাক্তির নিজস্ব্য অস্তিত্বের চ্যলেঞ্জ গুলিকে পূনঃর্বিবেচনা করে দেখা উচিৎ। সময়ের বিশালত্বে মানুষ ও প্রানীজগৎ উভয়ই বন্দী। প্রানীজগৎ প্রানান্তকর চেস্টায় থাকে বেঁচে থাকতে কিন্তু এটা মানুষের জ্ঞানবর্ধনে সহায়ক হয় না। একটি মতাদর্শগত পার্থক্য নিয়েই দ্বিধাবিভক্ত এপ্রসঙ্গে মানব সভ্যতা। তাই বিশাল সময়ের একটি বা একাধীক অবকঠামোর চিন্তামাথায় গেঁথে নিতে পারলেই একাকিত্বের মধ্যেও আমরা কেউই মহাকালের গহ্বরে হারিয়ে যাবোনা বলে আশাবাদী হতে পারি। কথা তবুও থাকবে ঈশ্বরকে তো দেখাই যাবে না তাহলে সময়ের সংবিধান কি। উত্তরও দেয়া যায় মানবিকতার একদম সীমান্ত ঘেঁসা সেই উত্তর, ‘ম্যায় হঁ না। কোই বাত নেহি।ঘাবড়াও মাৎ।’


পরোপকার করার মানষিকতা কোন বিচ্ছিন্ন ভাবনার অংশ হতে পারে না। একজন মানুষ তখনই কেবল পরোপকারের চিন্তা করতে পারবে যখন মানুষ তার গঠনতন্ত্রের ব্যাপারে মুক্ত আর বুদ্ধীর দিক থেকেও কোনপ্রকারের দ্বিধাদন্দ ব্যাতিরেকে থাকে। হয়তো সেটা একদমই অসভ্য জংলী জীবন যেখানে সভ্যতার স্পর্শও নাই। কিন্তু তবু সে একটি উত্তম সিদ্ধান্ত গ্রহন করতে পারে যখন কোন প্রকারের অনিশ্চয়তায় সে পড়ে না। অর্থাৎ মানুষ তখন নিজ উপস্থিতিকে অধিকার বলে প্রতিষ্ঠিত করে নিতে দ্বিধাবিভক্ত হবে না। এবং পরিবেশের দিক থেকেও কোন প্রকারের বিঘ্ন এবং প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।অনুধাবনের ক্ষেত্রটিতে একজন মানুষ পরিপক্ক থাকে এবং স্বাবলম্বী হতেও গর্ববোধ করবে তখন মানুষ এমতাবস্তায় পরোপকারী ভাষার দেখা পায়।ভাষার ভাবচিহ্নগুলিও সাধারন চোখেই দেখতে পায়।প্রানীজগতের মধ্যে থেকেও নিজের আঙ্গিনায় একটি স্বকীয়তাবোধের জন্ম হয়। সময়কে উপভোগ্য করে তোলে নবজন্ম শিশুগন। পরোপকার করার মানষিকতাকে শত্রুমিত্র ভেদাভেদের সামাজিক লজ্জার হাত থেকে মুক্ত হয়ে একক সহায় সম্বল ভাবযুক্ত সভ্যতার অংশ করে নিতে অনেক সময় লেগেছে। পরোপকারী মানষিকতা দেশ ও জাতীয়তার আলোকপ্রাপ্ত সম্পূর্ন স্বাধীন চিন্তার অংশিভূত হতে হতে আরো কত শতাব্দী লেগে গেছে তা ঠিক করে কেউই জানেনা।পরোপকারী মনোভাব কি এখনও পুরোপুরি দায়মুক্ত হতে পেরেছে।


এমন একদিন ছিলো যখন ভাষার দখলস্বত্বের উপরেই একজন প্রভূ এবং দাসের সীমানা নির্ধারিত হয়েছিল তা এখন ইতিহাস। এদিকে সেই সূত্রগুলিও এখন হারিয়ে গেছে কিভাবে বিভিন্ন ভাষার ফোনেটিক্সের গোপন রহস্য মানুষের কথ্য অকথ্য ভাষায় প্রধান্য পেয়েছে। ও কিভাবে বা কিসের প্রভাবে এই নানা জাতীর ফোনেটিক্সের এভাবে বিভিন্নতর বিভাজনের মধ্যে কি কোন রহস্য (God) লুকিয়ে ছিলো বা সোজকথায় কোনপ্রকার মানবতা (Prophet) কি সুপ্ত ছিলো। নাকি আগত মহাজাগতিক সেই উন্নত প্রানীরা তাদের প্রভূত্বের বীজটি শুধু রেখে যায় এবং কিভাবে বপন করে রেখেছিলো যার ধারাবাহাকতায় আজকের এই নৈরাশ্যজনক পৃথিবী। প্রাগৈতীহাসিক যুগে কোন কোন ভাষা দার্শনীক নিদর্শন চর্চার জন্য সুবিধাজনক ছিলো সেটা গবেষনার বিষয়।দর্শনচর্চায় নৈরাশ্যের স্থান নাই।পরোপকারের বাসনা মগজে পঠিত এবং গ্রন্থিত হয়েছে।


ভাষার দখলস্বত্ব বহাল হতে না হতেই পৃথিবীতে ধর্মচিন্তার সূচনা হয়েছে নাকি উল্টো ব্যাপারটাই ঘটেছিলো সেটা এখন একটি বিশাল রহস্য বটে।কারন দর্শন চিন্তা ধর্মের সঙ্গে পুরোপুরি এলাইনমেন্টে না। তাই একটি শক্তিশালী ভূমিকার প্রয়োজনীয়তা থাকে যাতে করে দর্শনশাস্ত্র তার সম্পূর্নতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়।এখানে সংঘাতটি হচ্ছে সময়ের সঙ্গে। সুতরাং এভাবে পৃথিবীর মানচিত্রে দাঁড়িয়ে ধর্মকে সম্পূর্ন ঐশ্বরীক বলতে দ্বিধা হতে পারে যদি না আমাদের ভাষা ততধিক উন্নত কোন মানবিক ভাষাতত্বের উৎসগুলোকে এবং এর ঐতিহাসীক সংযোগগুলি খুঁজেই না পায়।এটা না দেখতে পেল তখন ভাষাতত্ব ও ধর্মতত্ব এই দুইয়ের পশ্চাত সংযোগ (Backlinking) সাধন বেশ জটিলতায়পূর্ণ হতে যেতে বাধ্য।একদম বোধগম্যতার বাইরে কোন অপভ্রংশ ভাষায় রূপায়িত হবে।যেটা দর্শনশাস্ত্রের অন্তর্ভূক্ত হয়ে গেলেও যেতে পারে। আমাদের জানা নেই বর্তমান সময়ের বহুল আলোচ্য বিষয় এই যে মানবাধিকার সেটাও কি আসলেই দুঃশ্চিন্তাগ্রস্ত এসব মানুষের অধিকার বলে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে নাকি এখনও সেভাবে গন্য হয়না? নাকি এসব কেবল বাগাড়ম্বড় শুধুই বাস্তব ভালোবসার আলোচনায় কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ রয়েছে এখনও। অথবা কেবলই একটি চলিত ভাষায় বলতে গেলে এটা শুধু শিশুতোষ কৌতুহলের মানদন্ড হয়েই চিরকাল বহাল থাকবে।কেউ কেউ হয়তো ভাষার সঙ্গে ধর্মতত্বের কোন সংযোগ থাকবে এমন বিষয়টিকেই অস্বীকার করবেন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

নদীমাত্রিক এই ভূপ্রকৃতির উত্তর দক্ষিনে প্রবাহমান পানির ঢল।এই নগরটি মেগাসিটি- বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ,পদ্মা মেঘনা এবং অন্যান্য ট্রিবিউটারিস বিধৌত একটি পাদভূমি।একটি ত্রিকোন ভূমি অথবা ট্রায়াঙ্গেল।

বিষাক্ত এবং দূষিত জীবন অন্যায় করেও পার পায় আর অন্যের জীবনকেও মানব দূষনের কেন্দ্রবিন্দুতে রুপান্তরিত করে।