নদীমাত্রিক এই ভূপ্রকৃতির উত্তর দক্ষিনে প্রবাহমান পানির ঢল।এই নগরটি মেগাসিটি- বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ,পদ্মা মেঘনা এবং অন্যান্য ট্রিবিউটারিস বিধৌত একটি পাদভূমি।একটি ত্রিকোন ভূমি অথবা ট্রায়াঙ্গেল।

 নদীমাত্রিক ভূপ্রকৃতির এই উত্তর দক্ষিনে প্রবাহমান পানির ঢল।এ মেগাসিটি বুড়িগঙ্গা, ধলেশ্বরী, তুরাগ,পদ্মা মেঘনা এবং অন্যান্য ট্রিবিউটারিস বিধৌত পাদভূমি।এটি একটি ত্রিকোন ভূমি অথবা যেন কোন ট্রায়াঙ্গেল।


আমাদের এই উত্তর দক্ষিন প্রবাহমান নদী প্রকৃতিতে ইঞ্জিনীয়ারিং এমনিতেই ডিফিকাল্ট। সঙ্গে আবার যুক্ত আছে শতাব্দীর ব্যাবসার স্বার্থ। ঢাকা শহরের প্রকৃতি এমনই যে শুধু বুম বুম গাড়িঘোড়া আর যানজট তাই শুধু নয়। প্রধান সড়কে গনমানুষের উদয়াস্ত (দশটা-পাঁচটা !!) দ্বিমুখী চলাচল এখন যেন একটি নিয়তি। প্রতিদিনই কর্মমুখী মানুষের ঢল নামে এখানে। আমরা এতেই অভ্যস্ত। আমাদের ভবিষৎ বংশধররাও কি এই অস্বাভাবিকতা মেনে নিবে নাকি পাড়ি দিবে অন্য কোথাও। ঈদেও গ্রামমুখী মানুষের এমন মিছিল বাংলাদেশের উত্তর দক্ষিনে প্রবাহমান নদীগুলির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ন এবং তাই স্রোতের প্রবাহের মত মহাসড়কগুলিও উত্তর এবং দক্ষিন মুখী। 


খাল এবং বিল মানব সৃস্ট। তাই এর প্রভাবেও কিছুটা ভিন্নতা থাকা উচিৎ। উন্নয়ন পরের কথা।কেননা স্রোত বা ঢল বাদেও নুতন ভাবে উপলব্ধ কিছু মানবীয় পরিবেশ সংরক্ষন জরুরী। সংস্কৃতিতে তার প্রভাবটিও থাকে তাই নুতন শহর পরিকল্পনার আগেই বুঝতে হবে অসুবিধাগুলি কোথায় এবং বেছে নিতে হবে সুযোগ সুবিধাগুলিও।


গ্রামীন জীবনের বিকল্প হিসাবে কখনোই একটি শহর গড়ে উঠতে পারে না।এটা সভ্যতা সংস্কৃতি বা ঐতিহ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। প্রকৃত প্রয়োজন উপলক্ষ করেই ধীরে ধীরে একটি শহরের ভিত তৈরী হয়।প্রস্তুতি হিসাবে এর মধ্যে ব্যাবসা বানিজ্যের সুবিধা তো থাকবেই সঙ্গে আরো থাকে সামাজিক আইন শৃঙ্গখলার উপলব্ধি তথা শৃঙ্গখলাবদ্ধ জীবনযাপনের অন্যান্য সৌন্দর্য্য সমূহ। পরবর্তিতে যদি নাগরীক সুযোগগুলি বৃদ্ধি তথা সৌন্দর্য্য বর্ধন এবং সড়কে চলাচলে যানবাহন সুবিধার পর্যাপ্ততা বা দ্রুত পরিবহন ব্যাবস্থা না করা হয় তখন ভিন্ন একটি পরিস্থিতি তৈরী হবে। শহরে অবশ্যম্ভাবী দেখা যাবে তখন মানবিক জীবনযাপনের মানের অবনতি ঘটতে বাধ্য। মানুষ শুধুই কনক্রিটের দেয়ালের উষ্ণতা এবং নিরাপত্তার মধ্যেও কোন স্বস্তি পাবে না। 


শুধু মাত্র সড়ক মহাসড়কের দ্বিমুখী ব্যাস্ততাকে পরিকল্পনার মাধ্যমে চতুর্মুখীন ব্যাস্ততায় পরিনত করতে পারলেই নগরবাসীদের জীবন যাপন দর্শনে কিছুটা স্বস্তিদায়ক অনুভূতি এবং অধীকতর নিরাপত্তা বোধ তৈরী করা সম্ভবপর হবে। হয়তো এভাবে নাগরিকদের আইনগত বিষয়বস্তু রক্ষা এবং অধিকার সুরক্ষার ইস্যুটি তবুও অবহেলিতই থাকছে। কিন্তু এটা বুঝতে হবে যে অনেক মানুষের বসবাসের একটা শহরকে এভাবে দিনের পর দিন অপরিকল্পিত ভাবে স্বেচ্ছাচারীদের বাড়ার ব্যাবস্থাপনায় নগরবাসী মানুষের স্বেচ্ছা কারাগারে পরিনত করাটাও অন্যায়।


আরব দেশের রুক্ষ প্রকৃতির সঙ্গে মিলবিহীন, এবং একটি নদীমাত্রিক ভূপ্রকৃতির উপর শুধুমাত্র নব্য ইসলামিক যুগের পুরাতন ব্যাবসা বানিজ্যের ভিত্তিতে গড়ে উঠেছে যে শহরটি, যোগাযোগের উত্তর-দক্ষিনে বিস্তত বাংলাদেশের এইসব শহর, নগর, বন্দর বর্তমান যুগে কতটা আধুনিক। বিশ্বের আধুনিক শহরগুলিতে মানুষের বিপুল উপস্থিতি থাকলেও মানুষের কর্মক্ষেত্র কিন্তু থাকে একদিকে যেমন বিস্তৃত তেমনই থাকে জালের মত ছড়ানে যানবাহন চলাচলের সড়ক মহাসড়কগুলি। সেখানে পথঘাটগুলো নিত্যদিনের দৃশ্য একমুখী চলাচল বা শুধুই দিনান্তের সময় দ্বিমুখী হবার সম্ভাবনা সেখানে তৈরী হয় না। ব্যাস্ততার নানান দৃশ্যই সেসব দেশের সত্যিকারের আধুনিকতার মান মর্যাদা রক্ষা করে চলেছে যুগ যুগ ধরে।


এতো গেল এই শহরের চালচিত্র নিয়ে আমার সমপূর্ন নিজস্ব ধ্যান ধারনা বা হয়তো একে আমার ভাষায় একটি ব্যাক্তিগত দার্শনিক উপলব্ধি বলা যায়। তাই তথ্য উপাত্তের অপ্রতুলতা আছে। আমরা সবাই এখানে প্রতিদিনই যে যানজট এবং অসংখ্য মানুষের কর্মমুখী প্রবণতাকে লক্ষ্য করে থাকি সেটাই আসল সত্য। এটুকু ছাড়াও এখানে চোখে পড়ার মত আরো অনেক ধরনের অসামঞ্জস্য বাস্তবতা রয়েছে। নাগরিক জীবনের নানা হিসাব নিকাশকে ঘিরে থাকা সেসবকিছু সম্পূর্ণ কভার করা হয় নাই। একটি বড় শহর হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র কেমন অমানবিক অস্বাভাবিকতা আছে কিংবা হয়তো নাই অথবা থাকলে কি সেগুলি সেটাই উপলব্ধি করা হয়েছে মাত্র বা কোনটা আসল কোনটা নকল বুঝার চেষ্টা করা হয়েছে। শহর বিশাল হলেও সকলের স্বার্থে এর বসবাসযোগ্যতা কতটুকু বজায় থাকছে সেসব কিছু নিয়ে এখন কেউই ভাবছে না এটাই হচ্ছে বড় প্রশ্ন। মানুষের উপস্থিতির ঘনত্ব বেশী হতে থাকলে তাকে অবশ্যই হবে সকলের জন্য উপযোগী হয় এমন কিছু অবকাঠামো ভিত্তিক। তারপরেও যে বিষয়টি প্রথমেই নজরে আসে সেটা হচ্ছে নানামুখী বাস্তবতার সাথে মিল রেখেই দিন দিন যেভাবে ব্যবসা-বাণিজ্যের একটি হাব তৈরি হচ্ছে সেই সক্ষমতা।বিজনেস হাব হলেও তবুও তো নাগরিকদের সুযোগ-সুবিধার চাহিদা কিন্তু তাতে কমবে না বরং দিনে দিনে তা আরো বেশি করে অনুভূত হবে এবং আরো বেশি কিছু দাবি করছে আমাদের সভ্যতার কাছ থেকে। যাতে করে একটি উন্নত শহরে থাকতে পেরে এবং সকল নাগরিক সুযোগ সুবিধা ভোগের কথা মাথায় রেখেও উন্নয়নের সূচক দিক থেকে বহিঃর্বিশ্বের সাঙ্গেও তাল মিলানো যায়। এরকম একটা কংক্রিটের জঞ্জালে শিশুরাও বড় হচ্ছে। তাদের গঠনমূলক শক্তিকে কাজে লাগাতে হলে এখনই প্রাকৃতিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান হয় এমন আধুনিকতা প্রনয়ন করার কোন বিকল্প নাই। এ তো গেল সম্ভাবনার একটি প্রধানতম অংশ।বাকি একটি খাঁটি কথা হচ্ছে এই যে আমাদের নগরায়নের মূলেই হয়তো কিছু বৈসাদৃশ্য অবশ্যই আছে। 


এটি ছাড়াও আরো যেসব বিষয়গুলি প্রাসঙ্গিক ভাবেই আলোচ্য সূচিতে থাকা উচিৎ ছিলো  তা হচ্ছে জীবন যাত্রার মান নিম্নগামী হওয়ার কারন এবং অথবা দারিদ্রতার কারণ নির্ণয়। এবং তারপরে আরো থাকছে এই যে অব্যহত ভাবে চলমান এইভাবে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সমাধান কোথায়। এবং সবশেষে যে বিষয়টি সকলেরই বুঝার দরকার আছে সেটা হচ্ছে সম্পদের সুষম বণ্টন নীতিতে ভূত রয়েছে, কাজকর্মের সুযোগ আরো কমতে থাকায় সবাই যেন এখন মনে মনে একটি আলাদিনের চেরাগের খোঁজ করতে থাকে। এই যে আলাদিনের চেরাগের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে, যা আমাদের চারদিকে দৃশ্যমান আছে তাকেও প্রশ্নের সম্মুখীন করা। এটা কিভাবে হচ্ছে। এবং অতঃপর যে জ্বীনটি এর নেপথ্যে রয়েছে তার প্রকৃতি কেমনতর সেটা খুঁজে দেখা। কেনইবা জ্বীনটি এখনো সবার ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছে। সবশেষ এটা বলতেই হচ্ছে যে এতকিছু সমস্যার মধ্যেও একটি সমস্যার সমাধান এখনও আমাদের হাতের কাছেই। তা হচ্ছে ভবিষ্যৎতে বসবাস উপযোগীতার কথা মনে রেখে সফল ভাবে নগর পরিকল্পনার দিকে এখনই সকলের আরো বেশী মনোযোগী হওয়া।




মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

সত্যমিথ্যায় মিশেল নানা মানব ভাষার এই জটিল পৃথিবীটি একদিনে মানব বসতীর উপযোগী হয়নাই।

বিষাক্ত এবং দূষিত জীবন অন্যায় করেও পার পায় আর অন্যের জীবনকেও মানব দূষনের কেন্দ্রবিন্দুতে রুপান্তরিত করে।